তেড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা সাকিবের

0 74

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পোস্টারবয় সাকিব আল হাসান। শুধু কি বাংলাদেশ, বিশ^ক্রিকেটেও তার অবদান অনন্য। কিন্তু আলোচনা-সমালোচনা যেন অন্যতম সঙ্গী বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডারের ক্যারিয়রে।

বীরের বেশে শেষ করা উইন্ডিজ সফরে আবারও সেই সমালোচনা। কথা উঠেছে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গীতে এক ভক্তের দিকে সাকিবের রেগে তেড়ে যাওয়া নিয়ে।। যদিও সেখানে থাকা অনেকেই মন্তব্য করেছেন সাকিবের দোষ খুব একটা ছিল না। এবার সে বিষয়ে মুখ খুললেন সাকিব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে হঠাৎ করেই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। আর সে ভিডিওটিই নতুন করে সাকিবকে সমালোচনার দিকে ঠেলে দেয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবকের দিকে তেড়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব। ক্ষিপ্ত সাকিবকে সামলাতে জাতীয় দলের সঙ্গে থাকা অনেকেই এগিয়ে আসেন এবং তাকে হোটেলের ভিতরের দিকে নিয়ে যান।

তবে সে সময় হোটেল লাউঞ্জে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানায়, ওই সমর্থক প্রথমে সাকিবের সঙ্গে সেলফি তোলেন। পাশাপাশি বারবার অটোগ্রাফ চাইতে থাকেন। এরপর আবার সাকিবকে নিয়ে ভিডিও করার আবদারও করেন। মাত্রই হোটেলে ফেরা সাকিব ক্লান্ত বলেই সব আবদার রাখা সম্ভব ছিল না। কিন্তু সাকিবের এই না বলাই যেনো মানতে পারছিলেন না সমর্থক।

খুব বাজে ভাষা ব্যবহার করেন সাকিবের উদ্দেশ্যে। এছাড়া ‘ভাব মারায়’ বলতেই ফিরে আসেন সাকিব। জোর গলাতেই কথা বলেন সাকিব। আর ভুল ক্যাপশনে সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে। কিন্তু আসলেই কি সমালচনার পাত্র সাকিব! এ ঘটনায় এবার নিজের দিকটিও পরিষ্কার করলেন সাকিব।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাকিব লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় ভক্ত এবং অনুসারীদের উদ্দেশে কিছু কথা বলতে চাই। সম্প্রতি আমাকে নিয়ে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের পর লবিতে আমাকে এবং আমার একজন তথাকথিত “ফ্যান”-এর সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করতে দেখা যায়। এই ক্লিপটি সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করে না।

পর-পর ম্যাচ থাকায় আমি এবং আমার সহকর্মীরা বেশ ক্লান্ত ছিলাম এবং আমরা আমাদের রুমে ফিরে যাচ্ছিলাম। আমরা আমাদের নিজস্ব সরঞ্জাম এবং ব্যাগ বহন করছিলাম, তাই আমাদের হাত পূর্ণ ছিল, তখন কোনোভাবেই অটোগ্রাফ দেওয়া সম্ভব ছিল না।

আমরা সর্বদাই আমাদের ভক্তদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি এবং তাদের সঙ্গে ছবি তুলে, অটোগ্রাফ দিয়ে মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু ভক্তদেরও বুঝতে হবে যে, আমরাও মানুষ। আমরা মাঠে একটা বিজয় অর্জনের জন্য প্রাণপণ লড়াই করি। আমাদের কি ব্যস্ত কিংবা ক্লান্ত অনুভব করার অনুমতি নেই?
আমরা আপনাদের সমর্থন বুঝি এবং সবসময় প্রশংসা করি। চেষ্টা করি আপনাদের সমর্থনের প্রতিদান যাতে আমরা মাঠে ভালো খেলার মাধ্যমে দিতে পারি। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের এই কঠিন পরিশ্রম এবং কঠোর চেষ্টার সঙ্গে সবসময় নিজেকে গুছিয়ে রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

আমার আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে যে, আমাদের মধ্যে কেউ যদি আপনাদের অনুরোধ না রাখতে পারি, তবে তা ব্যক্তিগতভাবে নিবেন না। কারণ আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি তা হয়তো আপনি যা দেখছেন তা থেকে ভিন্ন হতে পারে। হুটহাট আমাদের পরিস্থিতি বিবেচনা না করে কিংবা আমরা কেমন মুডে আছি তা বোঝার চেষ্টা ছাড়াই কোনো সিদ্ধান্ত বা মতামত দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন না।

আমি আমার ভক্তদের অসম্ভব ভালোবাসি এবং আমি মাঠে তাদের জন্যই খেলি সেটা জাতীয় দল হোক কিংবা কোনো লিগের জন্য হোক। একই সঙ্গে আমি আমার ভক্তদের কাছ থেকে সম্মান, ভালোবাসা এবং তারা আমাকে বুঝবে এমনটাই আশা করি।

আমি জানি কিছু মানুষ, যারা হয়তো আমাকে ফলো করে অথবা করে না কিন্তু সবসময় ছোট ছোট বিষয়ে আমাকে নিচু করতে পছন্দ করে। তাদের উদ্দেশে আমি বলতে চাই, আমাদের থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে হলে এই নিচু মানসিকতা পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রত্যেকটা ম্যাচে আমরা এমনিতেই অনেক বেশি চাপে থাকি, নতুন কোনো চাপ প্রয়োগ না করার জন্য বিশেষ অনুরোধ করা হলো। আর এই মানসিকতার বাইরে যারা আছেন আমি সর্বদা তাদের পাশে আছি। সবার জন্য আমার তরফ থেকে ভালোবাসা রইল।’

সোমবার (০৬ জুলাই) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ১৯ রানে জেতার পাশাপাশি ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় টাইগাররা। আর এই সিরিজ জয়ে ব্যাট হাতে ১০৩ রান আর বল হাতে ৩ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা হন তারকা এই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

Leave A Reply

Your email address will not be published.