অভিনন্দন বাংলাদেশ! নয় বছর পর বিদেশের মাটিতে সিরিজ জয়।

0 68

পার্থ প্রতীম নন্দী:

টিকিট কেটে স্টেডিয়ামে বসে নিজ সর্মথিত দলকে জিততে দেখলে লোকে বলে পয়সা উসুল করা ম্যাচ। ঘরে বসে সারা রাত জেগে ভোর রাতে প্রিয় দলকে জিততে দেখলে তাহলে কী বলবে? ঘুম উসুল করা ম্যাচ! দীর্ঘ নয় বছর পর দেশের বাইরে সিরিজ হারের নিদ্রা ভাঙ্গা এই জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন ভোরের সূর্যোদয়!

সেন্ট কিটসে তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্যাচে শেষ দুই ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৪ রান। রুবেলের করা ৪৯তম ওভার থেকে মোটে ৬ রান নিতে পারেন পাউয়েল ও নার্স। শেষ ওভারে ক্যারিবীয়দের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৮ রান। মুস্তাফিজের করা শেষ ওভার থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাত্র ৯ রান নিতে সক্ষম হয়। এতে ১৮ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়ে ২০০৯ সালের পর দেশের বাইরে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয় করলো মাশরাফি-তামিমরা। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ চার বছর ধরে কোনো সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি।

শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হওয়া সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩০১ রান তোলে। বাংলাদেশ পক্ষে তামিম ইকবাল ১২৪ বলে ১০৩ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন।এছাড়া মাহমুদুল্লাহ খেলেন অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা ৩৬ রানের ঝড়ো এক ইনিংস খেলেন। দলের পক্ষে আগের দুই ম্যাচে ফিফটি পাওয়া সাকিব করেন ৩৭ রান।

জবাবে ক্যারিবীয় ওপেনার ক্রিস গেইল ভালো শুরু করলেও ইভান লুইস সংগ্রাম করছিলেন রান পেতে। যদিও ১০.১ ওভারেই তারা তুলে ফেলেন ৫৩ রান। আগের দুই ম্যাচের মতোই মাশরাফির দারুণ এক বলে মুশফিককে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লুইস(৩৩বলে১৩রান)। অপর প্রান্তে থাকা গেইল অবশ্য একাই দলকে টেনে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ৬৬ বলে ৭৩ রান করা গেইলকে মেহেদির ক্যাচে পরিণত করেন রুবেল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ‘ব্যাটিং দানব’ ফিরে যাওয়ার আগে পাঁচটি ছয় এবং ছয়টি চারের মার মারেন। ২১.৫ ওভারে দলীয় ১০৫ রানের মধ্যে গেইল একাই করেন ৭৩ রান। গেইলের আউটের পর হেটমায়ার ও শাই হোপ দলের হাল ধরেন। তাদের জুটি থেকে আসে ৬৭ রান।

আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হেটমায়ার ৪২ বলে ৩০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ধীর গতিতে এগোতে থাকা শাই হোপ ৯৪ বলে ৬৪ রান করে ফেরেন মাশরাফির বলে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তখন ৪৩.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২২৪। হোপের আউটের পর দলের হাল ধরেন রোভম্যান পাওয়েল। তিনি শেষ পর্যন্ত ৪১ বলে ৭৪ রান তুলে অপরাজিত থাকেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ৩০১/৬ (তামিম ১০৩, এনামুল ১০, সাকিব ৩৭, মুশফিক ১২, মাহমুদউল্লাহ ৬৭*, মাশরাফি ৩৬, সাব্বির ১২, মোসাদ্দেক ১১*; কটরেল ১/৫৯, হোল্ডার ২/৫৫, বিশু ১/৪২, পল ০/৭৭, নার্স ২/৫৩, গেইল ০/১৪)।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ৫০ ওভারে ২৮৩/৬ (গেইল ৭৩, লুইস ১৩, হোপ ৬৪, হেটমায়ার ৩০, কাইরান পাওয়েল ৪, রোভম্যান পাওয়েল ৭৪*, হোল্ডার ৯, নার্স ৫*; মাশরাফি ২/৬৩, মিরাজ ১/৪৫, মুস্তাফিজ ১/৬৩, মোসাদ্দেক ০/১০, মাহমুদউল্লাহ ০/২০, রুবেল ১/৩৪, সাকিব ০/৪৫)।

ফল: বাংলাদেশ ১৮ রানে জয়ী

সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: তামিম ইকবাল

ম্যান অব দা সিরিজ: তামিম ইকবাল

Leave A Reply

Your email address will not be published.